মানব মস্তিষ্কের কিছু তথ্য, যা অবাক করে দেবে আপনাকে

 

মানব মস্তিষ্কের কিছু তথ্য, যা অবাক করে দেবে আপনাকে
Image source

ব্রেন বা মস্তিষ্ক মানবদেহের সবথেকে জটিল একটি অঙ্গ। এই মস্তিষ্কের দৌলতেই মানুষ আজ জীবজগতের সবচেয়ে উন্নত প্রাণী। এটি যত শক্তিশালী ততই রহস্যময়। বিশ্ব জুড়ে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্ক নিয়ে প্রতিদিন প্রচুর গবেষণা করেই চলেছেন। আজকে আমরা মস্তিষ্কেরই কিছু অদ্ভুত এবং অবাক করা তথ্য জানব।

১. মস্তিষ্ক মানব দেহের মাত্র ২% কিন্তু সম্পূর্ণ দেহের অক্সিজেন সরবরাহের ২০% ব্যবহার করে মস্তিষ্ক একাই ব্যবহার করে।

২. ৫ বছর বয়স পর্যন্ত মস্তিষ্কের ৯৫% গঠন সম্পূর্ণ হয় এবং ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত এটির ১০০% গঠন সম্পূর্ণ হয়। অর্থাৎ মস্তিষ্কের বাকি ৫% গঠন হতে প্রায় ১৩ বছর সময় লাগে।

৩. মস্তিস্কে অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যদি ৫ থেকে ১০ মিনিট মস্তিস্কে অক্সিজেনের সরবরাহের ঘাটতি হয় তাহলে এটি পুরোপুরি ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 

৪. মস্তিষ্কের ব্যথা লাগে না। হ্যাঁ আশ্চর্যের হলেও এটি একদম সত্য। কারন মস্তিস্কে ব্যথা অনুভূত হওয়ার কোনো স্নায়ু থাকে না। এই কারনে চিকিৎসক রোগীর হুশ থাকা অবস্থায়ও ব্রেনের অপারেশন করতে পারে। আমাদের দেহে Nociceptor নামে রিসেপ্টর থাকে যার মাধ্যমে আমরা শরীরের যেকোনো অংশে ব্যথা অনুভব করতে পারি। কিন্তু মস্তিস্কে এই রিসেপ্টর না থাকার কারনে কোনো ব্যথা অনুভব হয় না।

৫. আমাদের মস্তিষ্ক দুটি ভাগে বিভক্ত। এই ভাগকে বলা হয় হেমিস্ফিয়ার। যথা বাম ও ডান হেমিস্ফিয়ার। আমাদের মস্তিষ্কের বাম হেমিস্ফিয়ার শরীরের ডান অংশকে নিয়ন্ত্রন করে এবং ডান হেমিস্ফিয়ার শরীরের বামদিকের অংশকে নিয়ন্ত্রন করে।

৬. মস্তিষ্কের একটি অংশের নাম 'এমিগডালা'। যা মানুষের ভয় ও আবেগের সঙ্গে জড়িত। যাদের এই অংশটি বেশি সক্রিয় থাকে তাদের ভিড় সম্বলিত জায়গা থেকে দূরে থাকার প্রবণতা দেখা যায়। যদি মস্তিষ্ক থেকে 'এমিগডালা' নামক অংশটি বের করে দেওয়া যায় তবে মানুষের যেকোনো ভয় দূর করে দেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়াও কারোর প্রতি মোহ বা মায়া মমতা তৈরি হয় এই অংশটির কারনে।

৭. ছোটবেলার কিছু বছরের স্মৃতি আমাদের মনে থাকে না। কারন ওই সময় আমাদের মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus) নামে অংশটি বিকশিত হয় না। হিপ্পোক্যাম্পাস আমাদের স্মৃতি মস্তিস্কে জমা করতে সাহায্য করে। এটি দুটি হেমিস্ফিয়ারের মাঝে থাকে এবং এটিকে দেখতে অনেকটা সামুদ্রিক ঘোড়ার (Seahorse) মতো দেখতে হয়।

৮. মস্তিষ্কের ৬০% অংশ চর্বি দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ মানবদেহের সবচেয়ে চর্বিবহুল অংশ হল ব্রেন বা মস্তিষ্ক। এই কারনে সার্জারির সাহায্যে মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ বাদ দিলেও আমাদের স্মৃতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

৯. যেসব শিশু ৫ বছর বয়সের আগে দুটি ভাষা শিখে ফেলে তাদের মস্তিষ্কের পরিকাঠামো বাকিদের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তিত হয়। 

১০. মস্তিস্কে ১ লক্ষেরও বেশি রক্ত বাহিত ধমনি থাকে। যার মাধ্যমে মানবদেহের ১৭% শক্তি ও ২০% অক্সিজেন ব্যবহার করে মস্তিষ্ক ২৩ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎশক্তি তৈরি করতে পারে। যার সাহায্যে অনায়াসে একটি বাল্ব জালানো যেতে পারে।

১১. আপনি জেনে অবাক হতে পারেন জেগে থাকা অবস্থায় মস্তিস্কে একদিনে ৬০০০০ থেকে ৭০০০০ চিন্তাধারা আসতে পারে। যতক্ষণ আমরা জেগে থাকি সর্বদা আমরা কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে আমরা চিন্তা করতে থাকি।

১২. ১৯৫০ সালে যখন আলবার্ট আইনস্টাইনের মারা যাবার সাড়ে ৭ ঘণ্টার পর ডাক্তার থমাস হার্ভি তার মস্তিষ্কে অস্ত্রপ্রচার করেন এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করে রাখেন। এরপর ১৯৭৮ সালে একজন সাংবাদিক স্টেসি লেভি পরীক্ষার করে বলেন যে এতবছর পরেও ওই মস্তিষ্কের কিছু অংশ জীবিত এবং খুব ভালো অবস্থায় আছে।


তথ্যসুত্র ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য