কল্পনা করতে পারেন মানুষ শূন্য পৃথিবীর, জেনে নিন কী হতে পারে কোনো কারনে যদি মানুষের বিলুপ্তি ঘটে পৃথিবীতে থেকে।

কল্পনা করতে পারেন মানুষ শূন্য পৃথিবীর, জেনে নিন কী হতে পারে কোনো কারনে যদি মানুষের বিলুপ্তি ঘটে পৃথিবীতে থেকে।
Image source - dailymotion

আপনি কি কোনোদিন ভেবে দেখেছেন যদি পৃথিবী থেকে সকল মানুষ হঠাত উধাও হয়ে যায় তাহলে কি হতে পারে। যদিও বাস্তবে এটি কখনই সম্ভব নয় যে সকল মানুষ একসাথে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কখনো হয়ত আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে মানুষবিহীন এই পৃথিবী কেমন হবে আবার নাও আসতে পারে। যাইহোক তবুও এই বিষয়টি নিয়েই আজকে আমরা কথা বলব।

পৃথিবী থেকে মানব প্রজাতি উধাও হওয়ার পর প্রথম যে ঘটনাটি ঘটবে বলে ধারণা তা হল সকল প্রকার ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। কারন বেশির ভাগ বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র গুলি চলে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে, যেমন কয়লা এবং তা জোগান দেওয়া ও চালনা করার জন্য মানুষের প্রয়োজন। তাই মানুষ না থাকার কারনে সেই কেন্দ্র গুলি চালিত না হওয়ার কারনে ধীরে ধীরে সেগুলি বন্ধ হয়ে যাবে।

মানুষের উধাও হওয়ার পর মোটামুটি ৪৮ ঘণ্টা পর আরও যে ব্যাপারটি ঘটবে তা হল বিশ্বের প্রতিটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুলি সেফটি মোডে চলে আসবে। বিদ্যুৎ উতপাদনের জন্য যতগুলি সোলার প্যানেল ও বায়ুকল আছে, সেগুলি দেখাশোনার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকবে।

সারা পৃথিবীর কৃত্রিম আলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। এই অবস্থায় সম্পূর্ণ পৃথিবীকে মহাকাশ থেকে অন্ধকার দেখাবে। শুধু মাত্র কিছু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও কয়েক সপ্তাহ অথবা কয়েক মাস চলতে থাকবে।সেখান থেকে পাওয়া শক্তিতে আরও কয়েক সপ্তাহ অথবা কয়েক মাস সেই এলাকায় আলো জ্বলবে।

মানুষ না থাকলে গৃহপালিত প্রাণীদের উপর যথেষ্ট প্রভাব পড়বে। খাদ্যের জন্য মানুষের উপর নির্ভরশীল সমস্ত গৃহপালিত প্রাণী মারা পড়বে। তার মধ্যে সবথেকে কষ্টে না খেতে পেয়ে মারা যাবে বিশ্বজুড়ে থাকা চিড়িয়াখানার প্রাণীরা যারা বেরোতেও পারবে না অথচ খাদ্যও পাবে না। যেসব গৃহপালিত প্রাণীরা খাদ্যের সন্ধানে তাদের বাইরের জংলী পশুরা মেরে খেয়ে ফেলবে।

পৃথিবীতে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট গুলি ঠাণ্ডা রাখার জন্য নিয়মিত জলের প্রয়োজন। কিন্তু মানুষের অভাবে সেই জল সরবরাহ না পেয়ে প্ল্যান্ট গুলিতে প্রচন্ড তাপ উৎপাদন হবে এবং সেগুলি ফেটে যাবে। ফলে আশপাশে প্রচুর পরিমানে রেডিয়েশান ছড়িয়ে পড়বে। এই রেডিয়েশানের প্রভাবেও কিছু প্রাণী মারা যাবে। কিন্তু মানুষ না থাকার কারনে সেইসব এলাকা দ্রুত রেডিয়েশানের প্রভাব মুক্ত হবে।

পৃথিবীর সমস্ত মেট্রো স্টেশনগুলি জলের তলায় চলে যেতে থাকবে, কারন স্টেশন গুলিকে জলমুক্ত রাখার জন্য কিছু পাম্পিং ব্যবস্থা থাকে। মানুষের অভাবে সেই কাজ ব্যাহত হবে এবং একটা সময় পর মেট্রো স্টেশন গুলি জলের তলায় চলে যাবে।

এরপর সময়ের সাথে সাথে যখন একবছর পূর্ণ হবে, মানুষের তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট গুলি ধীরে ধীরে পৃথিবীর বুকে একের পর এক আছড়ে পড়বে। কারন মানুষের তৈরি সমস্ত যন্ত্র যেগুলি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে এতদিন পর তা অকেজো হয়ে পড়বে।

পৃথিবীতে ধীরে ধীরে সবরকমের দূষণমাত্রা কমতে থাকবে। জলজ প্রাণী এবং মাছেরা নিশ্চিন্তে বেঁচে বংশবিস্তার করবে কারন নদী বা সাগরে দূষণ সৃষ্টি করার জন্য মানুষ থাকবে না এবং খাদ্য হিসাবে মাছও কেউ ধরবে না। সৃষ্টি হবে বেশ কিছু নতুন প্রাণীদের। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীরা আবার নতুন ভাবে বাঁচতে পারবে যারা মানুষের ক্রিয়াকলাপে হারিয়ে যেতে বসেছিল।

এরপর আরও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের তৈরি সমস্ত ইমারত গুলি ভেঙ্গে পড়তে থাকবে এবং সেই স্থান দখল করবে গাছেরা। কারন গাছপালা কাটার মতো কেউ থাকবে না। পৃথিবীর সমস্ত জায়গা জুড়ে আবার বনভুমির সৃষ্টি হতে থাকবে। যেসব বিখ্যাত শহর ও নগর হিসাবে পরিচিত ছিল সেখানে বন্য প্রাণীরা বিচরণ করবে।

পৃথিবীতে গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাব অনেক কমে যাবে। কারন নতুন ভাবে এসব তৈরি করার জন্য কেউ থাকবে না। ওজোন স্তর ধীরে ধীরে সেরে উঠতে থাকবে এবং গ্লোবাল ওয়ারমিং এর সমস্যা দূর হয়ে গিয়ে মেরু প্রদেশের বরফ গলার যে প্রক্রিয়া তা বন্ধ হয়ে যাবে।

দুবাই, রাজস্থান এবং মিশরের মতো যেসব শহরগুলি মরুভূমির দেশে অবস্থিত তা আবার ধীরে ধীরে মরুভূমিতেই বিলীন হয়ে যাবে। শুধু হারাবে না পিরামিড ও স্ফিংসের মতো মানুষের তৈরি স্থাপত্য। তবে কয়েক হাজার বছর পর সেগুলিরও আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

সমস্ত পৃথিবী ভরে উঠবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কিন্ত তা দেখার জন্য সেখানে কোনো মানুষ থাকবে না। তবে মানুষের তৈরি একটি জিনিস কয়েক লাখ বছর পর্যন্ত টিকে থাকবে আর তা হল পলিথিন বা প্লাস্টিক। কিন্তু প্রায় ৫০ লাখ বছর পর তাও বিলীন হয়ে যাবে।

অর্থাৎ এই সময়ের পর মানুষের মতো কোনো উন্নত প্রজাতির উদ্ভব হলেও তারা কোনো দিনও জানতে পারবে না অতীতের মানুষের অস্তিত্বের কথা। কারন মানুষের তৈরি বস্তুর ছোট থেকে বড় চিহ্ন হারিয়ে যাবে ততদিনে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য