UGC -র নির্দেশে ঘুম ছুটেছে কলেজের, প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চিন্তা।

UGC -র নির্দেশে ঘুম ছুটেছে কলেজের, প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চিন্তা।
Image source - indianexpress

করোনা অতিমারির আবহেই UGC-র নির্দেশিকা মেনেই কলেজ ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ১৫২ টি কলেজের অধ্যক্ষ এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে জানাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার দিন রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে বেলা ১২ টা থেকে বিকাল ৩ টে পর্যন্ত তিনটে শিফটে ওই বৈঠক হয়।

বৈঠকে বলা হয়েছে যে ফাইনাল সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের ২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা দিতে হবে। অনার্স ও পাশ কোর্স এই দুটি ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য। প্রশ্নপত্রের ডাউনলোড এবং উত্তরপত্র আপলোড করার জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। পরীক্ষার শুরুতে ১৫ মিনিট এবং শেষে ১৫ মিনিট এই ভাবে ৩০ মিনিট সময় বণ্টন করা হবে।

তবে ইউজিসি-র এই সিদ্ধান্ত মানতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজ। প্রত্যন্ত এলাকার পরীক্ষার্থীদের নিয়েই যত চিন্তা ও মাথাব্যথা কলেজ গুলির। প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যেমন নিম্নমানের, তেমনই স্মার্টফোনের অপ্রতুলতা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে।

এজেসি বোস কলেজের অধ্যক্ষ পূর্ণচন্দ্র মাইতি জানিয়েছেন, "যদি কোনো ছাত্র পরীক্ষা হলে আসতে পারবে না বা দূরে থাকার কারনে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন নেই, কলেজের উপর সেই দায়িত্ব রয়েছে কলেজ তাদের জন্য কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যবস্থা করতে পারে অথবা তার বাড়ির কাছাকাছি সেন্টার করে সেখান থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে নিতে পারে। সম্পূর্ণটাই কলেজের উপর নির্ভর করবে।"

প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা নিতেই হবে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়কে। এই রায়ের ভিত্তিতে ইউজিসি রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে ১৮ই অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত কলেজ ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এবং সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় যেন চেষ্টা করে অক্টোবর শেষের মধ্যেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে দেওয়ার।

ইউজিসি-র এই সিদ্ধান্তে ঘুম ছুটেছে প্রত্যন্ত এলাকার কলেজ অধ্যক্ষদের। কারন স্মার্টফোন তো দুরস্ত, সেখানে নেটওয়ার্ক পাওয়াটাই যেন এক অলীক কল্পনা বহু ছাত্রছাত্রীদের কাছে। ফলে কীভাবে এই নির্দেশ বাস্তবায়িত করা যায় তা নিয়েই এখন তাদের সমস্ত রকম দুশ্চিন্তা। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য