চীনকে জবাব দিতে কৌশল বদল ভারতের, প্রয়োজনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত

চীনকে জবাব দিতে কৌশল বদল ভারতের, প্রয়োজনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত
Image source - i1.wp.com


মিত্রতা ও সৌজন্যের দিন এবার শেষ। চীনকে তার ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংঘাতেও পিছপা হবেন না জওয়ানরা। প্রকৃত নিয়ন্ত্রন রেখায় কৌশল বদলাল ভারত। 

গালোয়ানের রক্তারক্তি কোনো ভুল বোঝাবুঝি ছিল না। চীন পরিকল্পনা করেই জমি দখল করতে এসেছিল। প্যাংগং লেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় ফাঁস হয়ে গেল চীনের অভিসন্ধি। 

কী চাইছে চীন? ১৯৬০ সালের পুরনো অবস্থান থেকেও সরে যাচ্ছে চীন। ১৯৬০ সালের যা দাবি ছিল, তার থেকেও বেশি জমি দাবি চীনের। পাংগং লেকের উত্তর ও দক্ষিণেও অতিরিক্ত জমি চাইছে চীন। চীনের জমি দাবিকে ইতিমধ্যেই অবাস্তব বলে তোপ দেগেছে আমেরিকা। শি জিনপিং এর সর্বগ্রাসী খিদে মনে করিয়ে দিচ্ছে হিটলারকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হিটলার এভাবেই বিশুদ্ধ জার্মান জাতির জন্য জমি দাবি করতেন।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গায়ের জোরেও চাপ সৃষ্টি করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রনরেখাকে আরও পশ্চিমে ঠেলে দিতে চায় চীন। এপ্রিল ও মে মাসে দুই দেশ পাঁচ দফা সামরিক বৈঠক করেও কোনও সমাধানে আসতে পারেনি। বরঞ্চ সামরিক উদ্দেশ্য নিয়েই এপ্রিল থেকে ক্রমাগত এগোচ্ছে ড্রাগন বাহিনী।

চীনের সামরিক প্রস্তুতি কেমন? পূর্ব লাদাখে তাদের ২ কোম্পানি ভ্রাম্যমান ডিভিশন সক্রিয় হয়েছে। জিনজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টে রয়েছে একটি বিমানবাহী ব্রিগেড। পূর্ব লাদাখের জন্য আরও দুটি ডিভিশন সেনা রয়েছে চীনের। সিকিম এবং অরুণাচলের জন্য সেনা রয়েছে তিব্বত মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টে। চীনের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের আওতায় রয়েছে ২ মিলিটারি ডিস্ট্রিক্ট।

জমি দখলের উদ্দেশ্য তাই আলোচনায় কান দিচ্ছে না চীন। গালওয়ানের সংঘর্ষের পর চীনের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে নিজে কথা বলেছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। চীনের সদিচ্ছা থাকলে তখনই বিবাদ মিটে যেত। কিন্তু হয়েছে তার বিপরীত।

কী বার্তা শি জিনপিং এর ? ২৭শে অগাস্ট তিব্বতে এক রাজনৈতিক সম্মেলন করেন শি জিনপিং। তিব্বতে স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে জোর দেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তিব্বতের শিকড়ে সমাজতন্ত্রের আদর্শ পৌঁছে দেওয়ায় জোর দেন তিনি। তিব্বত চীনের অংশ, সেখানে রাজনৈতিক কাঠামোয় যেকোনো পরিবর্তনের স্বাধীনতা বেজিং এর রয়েছে। কিন্তু তিব্বতে চীন বদল আনছে লাদাখ দখলের অভিসন্ধি নিয়ে। একই ভাবে হংকং এর উপরও জোর করে অন্যায় আইন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এসবই একটি বড়ো প্ল্যানের অংশ। পাল্টা কৌশল নিয়েছে ভারতও। কী করেছে ভারত?

চীনের ২০০ টিরও বেশি অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চতুর্দেশীয় সমঝোতায় যোগ দিয়েছে ভারত। চীন নির্ভরতা কাটিয়ে আত্মনির্ভর ভারতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনের তেল আমদানির পথ বন্ধে চীন সাগরে যুদ্ধ জাহাজ পৌছেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এবার সামরিক দৃষ্টি ভঙ্গিতেও বদল আনতে হবে। এতদিন পাকিস্থানকে মাথায় রেখে যাবতীয় সামরিক পরিকল্পনা করত ভারত। ভারতীয় সেনার তিনটি স্ট্রাইক কোরই রয়েছে পশ্চিম সীমান্তে।এবার প্রকৃত নিয়ন্ত্রন রেখায় অন্তত একটি স্ট্রাইক কোর রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। চীন সীমান্তে সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন দ্রুত শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

আলোচনা ব্যর্থ হলে চীনের সঙ্গে সামরিক সঙ্ঘাতে যেতে দ্বিধা করবে না ভারত জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষা প্রধান বিপিন রাওয়াত। যেকোনো মোকাবিলার পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সেনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য